হাওজা নিউজ এজেন্সি: সোমবার দুপুরে ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের ফাইযিয়্যা মাদ্রাসায় আয়োজিত হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের জনতার এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আয়াতুল্লাহ খাতামীর বক্তব্যে উঠে আসে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং সাতজন ধর্মীয় ছাত্র (তালাবা) নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “হাওজায়ে শিক্ষার্থীরা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ইসলামের পথে শেষ পর্যন্ত অটল থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, “সিয়োনিস্ট শাসন ও ট্রাম্পের অনুগতরা কিছু মসজিদে পবিত্র কুরআনে অগ্নিসংযোগ করেছে। তবে তারা ইরানের বিপুল জনগোষ্ঠীর সামনে নগণ্য। আমরা যদি সক্রিয় না থাকি, তবে ইসলামের শত্রুরা ধর্মের সকল নিদর্শন মুছে দেবে। আমরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত ময়দানে থাকব।”
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ খাতামী জোর দিয়ে বলেন, “এই সময়ের অশান্তিতে যা কিছু ঘটেছে, তা মূলত জনগণের বিরুদ্ধেই পরিচালিত। নিহত ২ হাজার ৪২৭ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “এই ঘটনাবলিতে ব্যাংক, বাস, স্কুল, থানা, বাসিজ কেন্দ্র, বহু বেসরকারি আবাসিক ভবন, স্থানীয় দোকান ও জ্বালানি স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড 'আফসাদ ফিল আরদ' বা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।”
তিনি যোগ করেন, “অশান্তিকারীদের পক্ষ থেকে বাসিজ ও পুলিশ বাহিনীর (ফারাজা) ২ হাজার ২২১টি যানবাহন ও সরঞ্জাম এবং ৪১৪টি সরকারি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। ইসলামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই তৎপরতা ছিল একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা, যা ৪৮ ঘণ্টার কম সময়েই ভেস্তে যায়। শত্রুপক্ষ ১৯৫৩ সালের (২৮ মুর্দাদ) সেই ব্যর্থ 'শা'বান বে-মুখ' অভ্যুত্থানের কৌশল পুনরায় প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু রেজা খানের এই উত্তরসূরির দাম্ভিক পরিকল্পনা কবরেই শেষ হবে।”
আয়াতুল্লাহ খাতামী বলেন, “অশান্তির নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে ফিকহি চারটি অপরাধমূলক অভিযোগ প্রযোজ্য। তারা ফিকহের দৃষ্টিতে 'মুহারিব' (রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী)। তাদের কাজ 'মুহারাবা'র অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া 'বাগি' (বিদ্রোহী), 'মুফসিদ ফিল আরদ' ও 'কাতিল' (হত্যাকারী) অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য। হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থী ও ইরানের সর্বস্তরের মানুষ এই নেতাদের কঠোর শাস্তি চান।”
তিনি জানান, “বিচারবিভাগীয় প্রধান বহুবার ঘোষণা করেছেন যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। জনগণও এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান।”
তিনি আরও বলেন, “এই অশান্তিতে আরেকটি দল ছিল যারা প্রতারিত হয়েছিল। আমরা বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি, যাতে তাদের সাথেও এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের আর এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হতে না দেখা যায়।”
নেতৃত্ব পরিষদের এই সদস্য ১২ দিনের যুদ্ধ ও সাম্প্রতিক অশান্তিতে শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলেন, “শত্রুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিলেন বিপ্লবের মহান নেতা। ট্রাম্প দাবি করেছে, ‘ইরানি জনতার অন্য একজন নেতার কথা ভাবা উচিত’। আমরাও মার্কিন জনগণকে বলি: এই দাম্ভিক প্রেসিডেন্ট তাদের জন্য লজ্জার বিষয়। তাদের উচিত অন্য একজন প্রেসিডেন্টের কথা ভাবা।”
তিনি বলেন, “বিপ্লবের মহান নেতা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন; বরং তিনি ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর প্রতিনিধি। আজ সবাই স্লোগান দিচ্ছে: 'আমরা সবাই তোমার সৈনিক, হে খামেনেয়ী! আমরা তোমার আদেশে সাড়া দেব, হে খামেনেয়ী!’”
তিনি মন্তব্য করেন, “কিছু ব্যক্তি, যারা এখনও যুক্তিবাদী মানুষের কথা শোনার দায়িত্ব পালন করেনি, তারা সংস্কারকদের 'উপদেশ দেয়া'র কথা বলে। তারা যদি পরিবর্তন আনতে না পারেন, তাহলে অন্তত বাধা সৃষ্টি করবেন না।”
আয়াতুল্লাহ খাতামী জোর দিয়ে বলেন, “কেউ কেউ ট্রাম্পের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন বা লেখেন যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা ‘ধর্মীয় একনায়কত্ব’ চালাচ্ছেন, অথচ বাস্তবতা তা নয়। কিছু মহলের বিবৃতি অত্যন্ত অশোভন। তাদের বক্তব্য মূলত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সমর্থনে বলা কথারই পুনরাবৃত্তি।”
তিনি বলেন, “আমাদের সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ পবিত্র কুরআনও এটির নির্দেশ দেয়। নেতৃত্বের আনুগত্য ও সামাজিক ঐক্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভার্চুয়াল জগতে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।”
তেহরানের ভারপ্রাপ্ত জুমার ইমাম যোগ করেন, “ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছে, ‘যেহেতু আমি বিশ্বে বহু শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি, তাই আল্লাহরও উচিত আমাকে ধন্যবাদ জানানো।’ আমরা দেখেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ একজন নার্সকে হত্যা করেছে এবং ট্রাম্প সেই কাজের সমর্থন করেছে।”
তিনি বলেন, “ইতিহাসে বহু দাম্ভিক শাসক ও শক্তি তাদের ক্ষমতার চূড়া থেকে পতিত হয়েছে। এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। সাতচল্লিশ বছর ধরে আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্য এই বিপ্লবকে রক্ষা করেছে এবং ভবিষ্যতেও আল্লাহ সাহায্য করবেন। আল্লাহর এই করুণাময় হাত সর্বদা ইরানি জাতির সঙ্গে রয়েছে।”
তিনি তার বক্তব্য শেষ করে বলেন, “হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মরক্ষার প্রাণকেন্দ্র। আজ এই দেশে মসজিদ ও কুরআনে অগ্নিসংযোগের কোনো স্থান নেই।”
আপনার কমেন্ট